জন্মনিবন্ধন একটি শিশুর প্রথম রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আবেদন, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, এমনকি বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। তাই জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে, ফলে ঘরে বসেই প্রাথমিক আবেদন করা সম্ভব।
জন্মনিবন্ধন করতে কোথায় আবেদন করবেন?
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের (BDRIS) মাধ্যমে অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের আবেদন করা যায়। আবেদন করতে সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।
নতুন জন্মনিবন্ধনের আবেদন লিংক: https://bdris.gov.bd/br/application
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (BDRIS) বর্তমানে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
আবেদনকারীর বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ৪৫ দিনের মধ্যে নবজাতকের জন্মনিবন্ধনের ক্ষেত্রে হাসপাতালের ছাড়পত্র বা জন্মসংক্রান্ত সনদ এবং পিতা-মাতার জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে বয়স পাঁচ বছরের বেশি হলে জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ, টিকাকার্ড বা অন্যান্য সরকারি নথি জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারীর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যও প্রয়োজন হয়।
অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করবেন যেভাবে
প্রথমে জন্মনিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্বাচন করতে হবে কোন ঠিকানা থেকে আবেদন করা হবে—জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা অথবা বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। এরপর নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির নাম বাংলা ও ইংরেজিতে, জন্মতারিখ, লিঙ্গ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে জন্মস্থানের ঠিকানা, পিতা-মাতার তথ্য এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রদান করতে হবে। সব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। সবশেষে আবেদন জমা দিলে একটি আবেদন নম্বর পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে আবেদনপত্র প্রিন্ট বা আবেদনের অগ্রগতি জানার জন্য প্রয়োজন হবে।
আবেদন করার পর কী করতে হবে?
অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে যাচাই শেষে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হবে।
জন্মনিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে?
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রে কোনো ফি প্রযোজ্য হয় না। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আবেদন করলে বয়সভেদে ফি দিতে হতে পারে। ফি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
জন্মনিবন্ধন আবেদন হয়েছে কি না যাচাই করবেন যেভাবে
জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর অনলাইনে তা যাচাই করা যায়। এজন্য ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে। ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ বর্তমানে প্রায় সব সরকারি সেবার জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
জন্মনিবন্ধনের আবেদন করার সময় নামের বানান, জন্মতারিখ এবং পিতা-মাতার তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করা উচিত। কারণ একবার ভুল তথ্য নিবন্ধিত হলে পরবর্তীতে তা সংশোধনের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। এছাড়া শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত এবং কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
জন্মনিবন্ধন শুধু একটি সনদ নয়, বরং একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভিত্তি। তাই শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব জন্মনিবন্ধনের আবেদন করা উচিত। বর্তমানে অনলাইন ব্যবস্থার কারণে এই প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করলে ঘরে বসেই জন্মনিবন্ধনের আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব।
মুক্তিসরণি/ডেস্ক
মুক্তিসরণি/ডেস্ক
মুক্তিসরণি ডেস্ক