জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার লাভলী বেগম (৪৮)। একসময় স্থানীয় আলহাজ জুট মিলে ড্রয়িং মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে জীবনের অবলম্বনটি একদিনে ভেঙে পড়ে। তবু থেমে থাকেননি তিনি। ফ্লাস্ক হাতে নিয়ে বাজার থেকে বাজারে ঘুরে চা বিক্রি করে একাই টেনে নিচ্ছেন জীবন।
প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর লাভলী বেগমকে মেয়েকে নিয়ে শুরু করতে হয় নতুন লড়াই। বিয়ের কয়েক বছর পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মায়। কিন্তু প্রায় দশ বছর পর স্বামী আবুল হোসেন বল্টু তাকে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে করলে লাভলী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সিটঘর এলাকার খলিল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার পাট মিলে চাকরির জীবন।
সব ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু হঠাৎ মিল বন্ধ হওয়ার পর চরম দুঃসময় নেমে আসে। খেয়ে না খেয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে অন্যের সহায়তায় একটি ফ্লাস্ক কিনে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিমলা বাজারের দোকানগুলোতে চা বিক্রি করে তিনি ৫০০–৭০০ টাকার মতো আয় করেন। খরচ বাদে হাতে থাকে ১৫০–১৮০ টাকা। এতেই কোনোমতে তার দিন চলে।
লাভলীর দীর্ঘদিনের দুরবস্থা দেখে বাড়ির মালিক খলিল হোসেন গত প্রায় দশ বছর ধরে তাকে বিনা ভাড়ায় আশ্রয় দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “লাভলী একসময় মিলের চাকরিতে ছিল, মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে। স্বামী নেই, ছেলে নেই—একটা মেয়ে ছিল, তাকেও এলাকাবাসীর সহায়তায় বিয়ে দিয়েছি। তার কষ্ট দেখে বিনা ভাড়ায় থাকতে দিয়েছি। সরকারি সহায়তা পেলে তার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যেত।”
লাভলী বেগম জানান, “স্বামী তালাক দেওয়ার পর মেয়েকে মানুষ করতে পাট মিলে কাজ করেছি। মিল বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো উপায় ছিল না, তাই অন্যের সহায়তায় ফ্লাস্ক নিয়ে চা বিক্রি শুরু করি। এখন শরীরে নানা অসুখ, হাঁটতে কষ্ট হয়—তবুও পেটের দায়ে চলতেই হয়।”
জীবনের প্রতিদিনই তার কাছে নতুন সংগ্রাম। তারপরও হার মানেননি লাভলী। সামান্য সম্ভাবনা পেলেই তিনি নিজের ভাগ্য বদলাতে প্রস্তুত।
মুক্তিসরণি/এমএস
মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী