ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

জোট নির্ভর এনসিপির ভবিষ্যৎ কোথায়

জোট নির্ভর এনসিপির ভবিষ্যৎ কোথায়
ad728
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসন জয় করে জাতীয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে। তবে এই অর্জন যেমন সমর্থকদের আশাবাদী করেছে, তেমনি জোট-রাজনীতিতে নির্ভরশীলতা দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এনসিপি প্রথমে এককভাবে নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সঙ্গে জোটে যায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছয়টিতে জয় পায়। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল বিজয় অর্জন করে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ আল জাজিরাকে বলেন, “মাত্র ১১ মাস বয়সী একটি দলের জন্য এটি ইতিবাচক ফল। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সন্তুষ্ট।” তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জোটে যাওয়া ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত দলটির ভেতরে ভাঙনও তৈরি করে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা পদত্যাগ করেন, তারা মনে করেন এই জোট এনসিপির ঘোষিত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মধ্যপন্থী আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও দলীয় নেতৃত্ব বলছে, এটি কেবল নির্বাচনী সমঝোতা, আদর্শিক একীভূতকরণ নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন থেকে দলে রূপান্তরের এই পর্যায়টি এনসিপির জন্য সবচেয়ে কঠিন। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক আসিফ বিন আলী মনে করেন, দলটি এখনো স্বতন্ত্র তৃতীয় শক্তি হিসেবে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে পারেনি। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে দলটির সামনে সম্ভাবনার কিছু জায়গা এখনো খোলা রয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আবেগই এনসিপির প্রধান রাজনৈতিক পুঁজি। তবে সংসদে ছয়টি আসন পাওয়া দলটিকে কতটা কার্যকর তৃতীয় শক্তিতে পরিণত করতে পারবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় নির্বাচনে তাদের কৌশল, জোট নির্ভরতা থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা এবং আদর্শিক অবস্থান কতটা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে তার ওপর।

সূত্র: আল জাজিরা

মুক্তিসরণি/এমএস