ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

নোবিপ্রবির পার্শ্ববর্তী এলাকায় বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে স্থাপনা

নোবিপ্রবির পার্শ্ববর্তী এলাকায় বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে স্থাপনা
ad728
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সীমানা সংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের ঘটনা সামনে এসেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং সুপেয় পানি সরবরাহকারী নোয়াখালী মৌজা পাম্পের পাইপলাইন।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম সীমানা থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত প্রায় ২ একর জমিতে একটি বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের জন্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। সেখানে মাটি কাটার এক্সকাভেটর, দুটি বড় পাম্প মেশিন এবং পাইপসহ বিভিন্ন উপকরণ রাখা ছিল। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তির পর আপাতত বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ঐ স্থান থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে একাডেমিক ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি মৌজা পাম্পের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ACCE) বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। আমাদের ময়না দ্বীপ এলাকা পরিযায়ী পাখিদের জন্য সংরক্ষিত আবাসস্থল। এখানে বালু উত্তোলন হলে পাখির আগমন কমে যাবে এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক–রেললাইন, সরকারি–বেসরকারি ভবন এবং আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০১০ সালের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনও একই বিধান অনুসরণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী জানান, “বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ইউএনওকে (নোয়াখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দেওয়া হয়েছে—যাতে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়।”

মুক্তিসরণি/এমএস