জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন–২০২৫কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে 'পক্ষপাতমূলক আচরণ, নির্বাচন পেছানো এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা' করার অভিযোগ তুলেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।
নির্বাচনের তারিখ পেছানোর সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের নেতারা জানান, ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন ২৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দেন। কিন্তু ছাত্রদলের বিরোধিতার পর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন ২৬ দিন পিছিয়ে ২২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে। প্যানেলটির দাবি, তারিখ পরিবর্তন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
কমিশনের ওপর পক্ষপাতের অভিযোগ
প্যানেলের অভিযোগ—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কিছু সদস্য ছাত্রদল ও তাদের সমর্থিত প্যানেলকে সুবিধা দিয়ে নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ২৪ নভেম্বর উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় কমিশন ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে দায়ভার প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা প্যানেলের ভাষায় “সুস্পষ্টভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা”।
কমিশনারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ছাত্র হলে উপহার দেন এবং এক শিক্ষক ড. তারেক বিন আতিকের পোস্টে ছাত্রদলপন্থী দুই প্রার্থীর পক্ষে ‘ভুল তথ্য’ ছড়ান। এগুলোকে প্যানেলটি 'নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন' বলে দাবি করে।
ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রিফাত হোসাইনের 'প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে দায়ভার প্রার্থীদের' এই বক্তব্যকে প্যানেলটি “নির্বাচন বানচালের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করে।
কনসার্টে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
২৩ নভেম্বরের একটি কনসার্টে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা স্টেজে উঠে বক্তব্য দিয়েছেন এবং অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। যদিও কমিশন দুইজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, প্যানেলের দাবি—এটি যথেষ্ট নয় এবং উদ্দেশ্যমূলক শিথিলতা দেখানো হয়েছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
অদম্য জবিয়ান ঐক্য মনে করে, নির্বাচন কমিশনের এসব সিদ্ধান্ত, আচরণবিধি লঙ্ঘন উপেক্ষা এবং তারিখ পরিবর্তনের কারণে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া ঝুঁকির মুখে।
তাদের অভিযোগ— কমিশন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের স্বার্থে কাজ করছে, যা সমতাপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মুক্তিসরণি/এমএস
জবি প্রতিনিধি