
বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য নথি। বাংলাদেশে বর্তমানে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ই-পাসপোর্ট (e-Passport) ইস্যু করা হয়। তবে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে— পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে?, প্রথমবার পাসপোর্ট করতে কোন কাগজপত্র প্রয়োজন? চলুন জেনে নেয়া যাক ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন পদ্ধতি এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা...
ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনকারীর বয়স ও পেশার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য যে নথিগুলো প্রয়োজন হয়— জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা স্মার্ট কার্ডের কপি, ১৭ সংখ্যার অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য বাধ্যতামূলক), অনলাইনে পূরণ করা ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি, পাসপোর্ট ফি পরিশোধের চালান বা রসিদ, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ, প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাসংক্রান্ত সনদপত্র।
২০ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র সাধারণত প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের জন্য ইংরেজি সংস্করণের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়।
শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র
কিছু বিশেষ পেশার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। যেমন— শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অনাপত্তিপত্র (NOC) বা সরকারি আদেশ (GO), চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা চালকদের মতো পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কারিগরি সনদপত্র।
তবে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য এসব কাগজপত্রের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করবেন যেভাবে
বর্তমানে ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে শুরু করা যায়। এজন্য ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://www.epassport.gov.bd
আবেদন ফরম পূরণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে সব তথ্য দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে।
বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সময় কী কী সঙ্গে নিতে হবে?
অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত তারিখে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস স্ক্যান) দিতে হবে। এ সময় সাধারণত সঙ্গে রাখতে হয়— আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ, মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিপত্র।
পাসপোর্ট করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
আগে ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি বাধ্যতামূলক ধাপ ছিল। তবে সাম্প্রতিক নীতিমালায় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত পুলিশ যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে।
পাসপোর্ট করতে কত দিন লাগে?
পাসপোর্টের ধরন অনুযায়ী ডেলিভারির সময় ভিন্ন হয়। সাধারণত—
রেগুলার: প্রায় ১৫ কর্মদিবস
এক্সপ্রেস: প্রায় ৭–১০ কর্মদিবস
সুপার এক্সপ্রেস: আরও কম সময়ে সরবরাহ করা হতে পারে
তবে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই ও পাসপোর্ট অফিসের কাজের চাপের ওপর ভিত্তি করে সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
আবেদন করার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
পাসপোর্টের আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য দিলে আবেদন স্থগিত হতে পারে বা পরবর্তীতে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে আবেদন না করে সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
বর্তমানে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে সঠিকভাবে অনলাইন আবেদন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই বিদেশ ভ্রমণ বা ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে আগে থেকেই পাসপোর্ট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।
মুক্তিসরণি/ডেস্ক