প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 25, 2026 ইং
প্রেমের টানে দাগনভূঞায় শ্রীলঙ্কান তরুণী

ভাষা আর সীমান্তের বাধা পেরিয়ে প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেনীর দাগনভূঞায় ছুটে এসেছেন এক তরুণী। কেবল আসাই নয়, সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াছিনের ছেলে এজাজ আহমেদ শিহাব এবং শ্রীলঙ্কান নাগরিক ইশারা মাট্টি ওমানের একটি টেক্সটাইল কম্পানিতে সহকর্মী ছিলেন।
সেখানে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়, যা পরবর্তীতে গভীর প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘ তিন বছরের প্রণয় শেষে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
ওমানে বিয়ের আইনি জটিলতা থাকায় তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারার পরিকল্পনা করেন। সেই মোতাবেক গত ৩১ জানুয়ারি শিহাব বাংলাদেশে ফেরেন।
তার টানেই গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বাংলাদেশে পা রাখেন ইশারা মাট্টি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি চলে আসেন দাগনভূঞায় শিহাবের বাড়িতে। ভিনদেশি বধূকে বরণ করে নিতে কার্পণ্য করেনি শিহাবের পরিবার। বাড়িতে আসার পর ইশারা মাট্টি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
তার নতুন নাম রাখা হয় জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৭)। এরপর পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও কেবল ভালোবাসার টানে জান্নাতের এই সাহসী পদক্ষেপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত তার শ্বশুরবাড়িতে বেশ আনন্দেই সময় কাটাচ্ছেন। ভিনদেশি পুত্রবধূকে পেয়ে খুশি শিহাবের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরাও।
জানতে চাইলে প্রেমিক এজাজ আহমদ শিহাব বলেন, ‘ওমানে থাকা অবস্থায় আমাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেখানের আইনে বিয়ে সম্ভব নয় বিধায় আমরা দেশে এসে বিয়ে করেছি। সে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হয়েছে। তার পরিবার ও আমার পরিবার বিষয়টি অবগত রয়েছে। সে আমাকে পেয়ে অনেক খুশি হয়েছে।’
মুক্তিসরণি/এমএস
© মুক্তিসরণি