প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 24, 2026 ইং
ইসলাম ধর্মে যেভাবে ফরজ হলো রোজা

মক্কা ও মদিনায় ইসলাম প্রচারের আগেও উপবাসের রীতি প্রচলিত ছিল, তবে তা বর্তমানের মতো একমাসব্যাপী বাধ্যতামূলক ছিল না। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নির্দিষ্ট দিনে পানাহার থেকে বিরত থাকার ধর্মীয় চর্চা ছিল; বিশেষ করে আশুরার রোজা আরব সমাজে পরিচিত ছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা জীবনে নফল রোজা পালন করলেও উম্মতের জন্য রমজানের ৩০ দিনের রোজা তখন ফরজ ছিল না।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরতের দুই বছর পর, হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসে কোরআনের আয়াত নাজিলের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য রোজা ফরজ ঘোষণা করা হয়। ইসলামি গবেষকদের মতে, কোরআনে উল্লেখ রয়েছে যে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ওপরও রোজা নির্ধারিত ছিল—যদিও তার ধরন ও সময়কাল ভিন্ন ছিল।
মদিনায় এসে নবী (সা.) আশুরার দিনে ইহুদিদের রোজা পালন করতে দেখেন এবং তিনিও তা পালন করেন; পাশাপাশি সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেন। তবে একমাসব্যাপী রমজানের রোজা তাঁর আমলেই প্রথমবারের মতো বাধ্যতামূলক হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোজার বিধান ধাপে ধাপে প্রবর্তিত হয়।
প্রথমদিকে কেউ রোজা রাখতে অপারগ হলে ফিদইয়ার সুযোগ ছিল, পরে তা রহিত করে সবার জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। সময় নির্ধারণেও পরিবর্তন আসে—প্রথমে ইফতারের পর নির্দিষ্ট সময়ের বিধান থাকলেও পরবর্তীতে সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়।
ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ—ঈমান, নামাজ, যাকাত, হজ্জ ও রোজার—মধ্যে রোজা আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়ার অনুশীলন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও বিধানের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে রমজানের রোজা আজ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য এক অবিচ্ছেদ্য ধর্মীয় অনুশাসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
সূত্র: বিবিসি
মুক্তিসরণি/এমএস
© মুক্তিসরণি