ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে ৪৪ জনের প্রাণহানি

শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে ৪৪ জনের প্রাণহানি
ad728
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় অন্তত ৪৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন ২১ জন। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)–এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

ডিএমসি জানায়, নিহতদের বেশিরভাগই মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলার চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা। রাতের বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢাল ভেঙে কয়েকটি বাড়ির ওপর ধসে পড়লে ২১ জন মাটিচাপায় মারা যান। একইভাবে নুয়ারা এলিয়া জেলাতেও মাটি চাপা পড়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাদাধসের ঘটনায় অন্তত ৪২৫টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কাজুড়ে নদীর পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের লোকজনকে উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএমসি বলছে, বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় উত্তর–পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সময় চলছে। দেশের পূর্বদিকে অবস্থান করা একটি নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি এবং উত্তর–পূর্ব অঞ্চলের কিছু কিছু স্থানে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে মালয়েশিয়ার সরকার দেশের শেষ বর্ষের স্কুল পরীক্ষা দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে। একই কারণে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আইনপ্রণেতাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে চলমান বাজেট বিতর্কও স্থগিত করা হয়েছে।

ডিএমসি আরও জানায়, চলতি সপ্তাহে আবহাওয়া–সংক্রান্ত প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের জুনের পর সর্বোচ্চ। ওই সময় ভারী বৃষ্টিপাতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ডিসেম্বর বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৭ জন।

শ্রীলঙ্কায় চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে, যখন ২৫৪ জনের মৃত্যু ঘটে। যদিও দেশটি সেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেখানে বন্যা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

সূত্র: এএফপি

মুক্তিসরণি/এমএস